সরকারি স্কুলে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ফিরছে ভর্তি পরীক্ষা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রথম শ্রেণিতে আগের মতো ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হলেও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। এ বিষয়ে নতুন ভর্তি নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। BSS
প্রথম শ্রেণিতে থাকছে ডিজিটাল লটারি
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে কোনো লিখিত ভর্তি পরীক্ষা হবে না। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
প্রথম শ্রেণিতে আবেদন করার সময় একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দক্রমে রাখতে পারবে। তবে কোনো বিদ্যালয় দুই পালায় পরিচালিত হলে এবং আবেদনকারী উভয় শিফট পছন্দ করলে সেটি দুটি পছন্দ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রথম শ্রেণির ডিজিটাল লটারির কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। Prothom Alo
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে।
এসব শ্রেণিতে কোনো সরকারি বিদ্যালয়ে শূন্য আসন থাকলে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে ভর্তি সম্পন্ন হবে। BSS
দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরের। বিষয় ও মানবণ্টন—
- বাংলা — ১৫
- ইংরেজি — ১৫
- গণিত — ২০
- পরীক্ষার সময় — ১ ঘণ্টা
অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের। বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০ এবং গণিতে থাকবে ৪০ নম্বর। পরীক্ষার সময় হবে দুই ঘণ্টা।
কেন এটি বড় পরিবর্তন?
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি বিদ্যালয়ের সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। পরবর্তী বছরগুলোতেও সেই পদ্ধতি অব্যাহত থাকে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। তবে প্রথম শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে না এনে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে আবার লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করা হবে। Prothom Alo
এর আগে চলতি বছরের মার্চে লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। পরে প্রথম শ্রেণিতে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি পরিবর্তন করে ডিজিটাল লটারি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত আসে। BSS
আবেদন থেকে ফল—সবই অনলাইনে
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আবেদন, আবেদন ফি গ্রহণ, ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশ অনলাইনে সম্পন্ন করার কথা নীতিমালায় বলা হয়েছে।
প্রতিটি বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শূন্য আসনের সংখ্যা নির্ধারণ করবে এবং ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। BSS
প্রতি শ্রেণির প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী রাখার বিধান রয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। বয়স প্রমাণে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি প্রয়োজন হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অতিরিক্ত সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে। BSS
অভিভাবকদের এখন কী করতে হবে
যেসব অভিভাবক ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সন্তানকে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে চান, তাঁদের জন্য শ্রেণিভেদে প্রস্তুতি আলাদা হবে। প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই; মূল বিষয় হবে সঠিকভাবে অনলাইন আবেদন ও বিদ্যালয়ের পছন্দক্রম দেওয়া।
কিন্তু দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে অন্য সরকারি বিদ্যালয়ের শূন্য আসনে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে।
আবেদনের সময়সূচি ও বিদ্যালয়ভিত্তিক শূন্য আসনের তথ্য প্রকাশিত হলে অভিভাবকদের সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় এবং সরকারি ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
