চুয়েট সংকট আরও ঘনীভূত: ক্যাম্পাসে ফেরা নিয়ে মুখোমুখি উপাচার্য-শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট নতুন মোড় নিয়েছে। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস থেকে বের করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে ক্যাম্পাস ছাড়ার শর্ত নিয়ে উপাচার্য ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য
চুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যেই সোমবার ক্যাম্পাসে গিয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে ভেতরে রেখেই ভবনটি তালাবদ্ধ করে দেন।
দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তাঁকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি এক, উপাচার্যের বক্তব্য ভিন্ন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না—এমন শর্তে তাঁকে বের হতে দেওয়া হয়েছে।
তবে বুধবার হাসপাতাল থেকে দেওয়া বক্তব্যে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন উপাচার্য।
তিনি জানিয়েছেন, পদত্যাগ কিংবা ভবিষ্যতে চুয়েট ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ করবেন না—এমন কোনো ঘোষণা বা অঙ্গীকার তিনি করেননি। সুস্থ হওয়ার পর আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ফলে উপাচার্যের ক্যাম্পাসে ফেরা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখন পুরোপুরি বিপরীত।
কেন শুরু হয়েছিল আন্দোলন?
চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই বর্তমান আন্দোলনের সূত্রপাত।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অংশের কর্মবিরতিও যুক্ত হওয়ায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, সেশনজটের শঙ্কা
দীর্ঘ অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর।
ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় একাডেমিক ক্যালেন্ডার পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১২ কার্যদিবস ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থীর সেমিস্টার ফাইনাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সামনে রয়েছে, তাঁদের মধ্যে সেশনজট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
নতুন উপাচার্য এর আগে জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হারানো ক্লাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একটি একাডেমিক রিকভারি পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এখন কী হবে চুয়েটে?
উপাচার্য বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। বর্তমান উপাচার্যও পদত্যাগের খবর প্রত্যাখ্যান করে সুস্থ হওয়ার পর দায়িত্বে ফেরার কথা জানিয়েছেন।
ফলে চুয়েটের চলমান সংকট দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় ফেরানো এবং সম্ভাব্য সেশনজট এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের গ্রহণযোগ্য সমাধানই এখন চুয়েটের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
