মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

শেকৃবির নতুন ভিসি ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া

  • প্রকাশের সময়ঃ শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০
  • ২৮ জন পড়েছেন
শেয়ার করুনঃ

কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজননবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নীলিমা আফরোজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ বিভাগ উপাচার্যকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- উপাচার্য পদে তাকে বর্তমান বেতন-ভাতা সুবিধা প্রদান করা হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাস সীমানায় অবস্থান করবেন। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর চাইলে যে কোনো সময় তার এ নিয়োগ বাতিল করতে পারেন। অবিলম্বে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

অধ্যাপক ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া কৃষি উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার (স্বর্ণপদক) লাভ করেন। তিনি একজন প্রথিতযশা শিক্ষক, গবেষক, উদ্ভাবক, লেখক ও পেশাজীবী সংগঠক।

১৯৮৩ সালে ঢাকার তৎকালীন বাংলাদেশ কৃষি ইন্সটিটিউটে জেনেটিক্স অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশে প্রথম উদ্ভিদ প্রজনন বিষয়ের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেন; যা বাংলা একাডেমি থেকে ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি ফসল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নানা বিষয় নিয়ে মোট ১৬টি গ্রন্থের লেখক।

তার রচিত ও প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হল- কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন শব্দকোষ (২০০১), উদ্ভিদ প্রজনন ও বিবর্তন (২০০৬), জেনেটিক্যালি মডিফাইড ফসল-বর্তমান ও ভবিষ্যৎ (২০০৮), ফসলের উন্নয়ন-বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (২০০৯),  জীব প্রযুক্তি (২০১০), ধান উন্নয়ন পরিপ্রেক্ষিত (২০১২), ফসল উন্নয়ন ও প্রযুক্তি (২০১২), পুষ্পকথা (২০১৩), ফসল ও মানুষ (২০১৪), খাদ্য ও পুষ্টি ভাবনা (২০১৪), ফসল কৃষি নানা ভাবনা (২০১৪), ফসলের জীববৈচিত্র্য ও জিন সম্পদ (২০১৫), বিজ্ঞানের কথা নিজের কথা (২০১৭)। তার দুটি অধ্যায় সংযোজিত গ্রন্থ হল কৃষি সাংবাদিকতা (২০১২)।

তার প্রকাশিত জনপ্রিয় বিজ্ঞান ও কৃষি বিষয়ক বিজ্ঞান প্রবন্ধের সংখ্যা ১৯১টি। সরিষা নিয়ে তিনি প্রায় বিশ বছর ধরে গবেষণা করে আসছেন। তার গবেষণার ফলশ্রুতিতে এসএইউ সরিষা-১ (২০০৬), এসএইউ সরিষা-২ (২০০৮) এবং এসএইউ সরিষা-৩ (২০১৪) নামে তিনটি সরিষা জাত উদ্ভাবন করেছেন; যা কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক যথারীতি নিবন্ধিত হয়েছে এবং কৃষকের নিকট চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন সমিতির পক্ষ থেকে প্ল্যান্ট ব্রিডিংয়ের ক্ষেত্রে সামগ্রিক অবদান রাখার জন্য ‘প্ল্যান্ট ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। ২০১৫ সালে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ কৃষি প্রকাশনার মাধ্যমে কৃষি শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন এবং কৃষির বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত করণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় তাকে ‘কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কৃষি পদক ২০১৫’ প্রদান করে।

কৃষি শিক্ষা, কৃষি উন্নয়ন, কৃষি প্রকাশনার ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে ড. ভূঁইয়াকে ‘ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা ট্রাস্ট ফান্ড গোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়।

এর আগে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট শেকৃবিতে চার বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। ১৩ আগস্ট ২০২০ সালে তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস পর উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হল।

মন্তব্য দিন ...

শেয়ার করুনঃ
মিস করলে পড়ে নিন ...