মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করা একটি মানবিক গুণ

  • প্রকাশের সময়ঃ সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৫৪ জন পড়েছেন
শেয়ার করুনঃ

মানবিক গুণাবলির মধ্যে মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করা একটি অন্যতম গুণ। সমাজে নিয়মশৃঙ্খলা, প্রেম-প্রীতি ও শ্রদ্ধা-সম্মানের এ মহৎ গুণের উসিলায় শান্তি নেমে আসে সমাজে। ইসলামে তাই অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সৎ স্বভাব ও সৎ আচরণের মাধ্যমে আমরা এ গুণটি জীবনের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ফুটিয়ে তুলতে পারি। পরিবারের সদস্য হিসেবে আদব রক্ষা করা যেমন সবার উচিত, তেমনি মর্যাদা-সম্মান প্রদর্শন করাও সবার কর্তব্য। মানুষের উত্তম স্বভাব ও শিষ্টাচার পার্থিব এবং পারলৌকিক জীবনে উপকারে আসে, পারস্পরিক সম্পর্ক ও শিষ্টতা নির্ভর করে মর্যাদা-সম্মান প্রদর্শনের ওপর।

পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে আমরা বসবাস করি। পরস্পরের প্রতি সৌহার্দ্যবোধ ও মমতার বাঁধনে সংসার হয় সুখের। তাই সমাজ ও সংসারের আদব রক্ষার জন্য আমাদের সবার বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা একান্ত কর্তব্য। আমাদের নবী করিম (সা.) বলেছেন, যারা বড়দের শ্রদ্ধা করে না এবং ছোটদের স্নেহ করে না, তারা আমার উম্মত নন। তিনি আরও বলেছেন, যে যুবক কোনো বৃদ্ধের প্রতি তার বার্ধক্যের কারণে সম্মান প্রদর্শন করে, আল্লাহতায়ালা সেই যুবকের শেষ বয়সে তার জন্য সম্মানকারী ব্যক্তি পয়দা করে দেবেন। সম্মান বোধের এ মহান বাণী আমরা মনে রেখে বলতে পারি, প্রত্যেক ব্যক্তির পদমর্যাদা অনুযায়ী মর্যাদা দেয়া, বয়োবৃদ্ধকে পিতার মতো সম্মান দেখানো এবং ছোটদের পুত্রের মতো স্নেহ করা মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় বহন করে। এ সম্পর্কে রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, ‘তিনটি বিষয় দিয়ে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত ও মজবুত হয়। তাহল কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেই সালাম দেবে। মজলিসে এলে বসার স্থান দেবে এবং তিনি যে নামে সম্বোধন করলে খুশি হন, সেই নামে সম্বোধন করবে।

বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলার জন্য সবার সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার ও সদালাপি হতে হবে। সত্যিকারভাবে মানুষের মর্যাদা নির্ভর করে সম্মান প্রদর্শনের ওপর। সুন্দর চেহারা উত্তম পরিচ্ছদ পরিধানকারী অধিক মর্যাদা দেয়া বা সমাদর করা এ বিধান ইসলামের কোথাও নেই। হজরত নবী করিম (সা.) বিদায় হজের খুতবায় বলেছেন, যে কোনো আরববাসী কোনো অনারব বা আজমি লোকের তুলনায় এতটুকুই শ্রেষ্ঠ নয়। কৃষ্ণকায় ব্যক্তি, শ্বেতকায় ব্যক্তি কৃষ্ণকার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নয়।

মানবিক মূল্যবোধের কারণে আমাদের সবাইকে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। আমরা ব্যক্তি, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি কাজকর্ম জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে সবার মধ্যে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন করে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও সম্মান বোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেন এক পরিপূর্ণ ভালোবাসার বেহেশতি জগৎ গড়ে তুলতে পারি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন।

প্রিয় বন্ধু! বর্তমানে একশ্রেণির মানুষকে দেখা যায় তারা বড়দের শ্রদ্ধা করে না। বিষয়টি শুধু এতটুকুই নয়, বরং তারা এতটাই উগ্র জীবনযাপন করে যে, কখনো কখনো তারা বড়দের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। কিছু নির্বোধ এমন দেখা যায় যারা বয়স্ক লোকদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করা এমনকি তাদের গায়ে হাত তুলতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। ওই নির্বোধ লোকদের চিন্তা করা উচিত, ভয় করা উচিত যে, এর থেকে খারাপ ও অপমানজনক পরিস্থিতি দুনিয়াতেই তার কপালে জুটতে পারে। আর পরকালের ভয়াবহতা তো আছেই। সুতরাং আমরা আমাদের ছোটদের স্নেহ করি, বড়দের শ্রদ্ধা করি, আদর্শ জীবন গড়ে জীবনটাকে আল্লাহমুখী করে তুলি; জীবনটাকে প্রিয় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের রঙে রঙিন করি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরকালের ভয়, আল্লাহর ভয়ের কথা স্মরণ রাখি। আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দিন।

লেখক, শিক্ষার্থী

মোঃ মাসুম হোসেন,

বি.এ. অনার্স (ইংরেজি)

এম. এ মাস্টার্স (ইংরেজি)

চট্টগ্রাম কলেজ।

মন্তব্য দিন ...

শেয়ার করুনঃ
মিস করলে পড়ে নিন ...