মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

যতই পড়িবে, ততই শিখিবে

  • প্রকাশের সময়ঃ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮৭২ জন পড়েছেন
শেয়ার করুনঃ

মোঃ মাসুম হোসেন:

“যতই পড়িবে, ততই শিখিবে” কথা টি শুনেছি বহুবার, কিন্তু কখনো প্রয়োগ করিনি জীবনে। অল্প পড়লেই মোটামুটি একটা রেজাল্ট হতো, তাই সবসময় হিসেব করেই পড়তাম। সবসময়ই ভাবতাম, কম পড়ে ভালো রেজাল্ট হলে বেশি পড়ার কি দরকার!

অাসলেই এই ধারণাটি ভুল। বই পড়ে যে মনের অানন্দ লাভ করা যায় সেটা অামাদের অনেকেরই অজানা, কারণ অামরা তেমন বই পড়ে অভ্যস্ত নই। সারাক্ষণ অামরা ব্যস্ত থাকি ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন কাজেকর্মে,কিন্তু বইয়ের জন্য অামাদের কোনো সময়ই কারো থাকে না।

অনেকে বই পড়া থেকে দূরে সরে গিয়েই বিভ্রান্তির পথে হারিয়ে যায়। তাদের বোঝাতে হবে যে বই শুধু মানুষের মেধা ও প্রজ্ঞাই বৃদ্ধি করে না, বরং বই পাঠে মানুষ হয়ে ওঠে কর্মোদ্যম, সহনশীল ও সহমর্মী। বেশি বেশি বই পড়ে পাঠক-পাঠিকারা খুঁজে নিতে পারে জীবনের শুদ্ধতম আনন্দ। শিক্ষা না থাকলে কোনো জাতি আলোর মুখ দেখে না। উন্নতির উচ্চ শিখরে অবতীর্ণ হতে পারে না। মানুষ বই পড়েই নিজেকে জানতে পারে এবং নিজের জীবনকে গড়ে তুলতে পারে। একটি ভালো বই যেকোনো সময় যেকোনো মানুষকে আমূল বদলে ফেলতে পারে। তার মানবিক সুকোমল বৃত্তিগুলো বিকশিত করে তাকে দায়িত্বসচেতন, দেশপ্রেমিক ও বুদ্ধিদীপ্ত নাগরিকে পরিণত করে। সে জন্য বই হচ্ছে মানুষের উৎকৃষ্ট বন্ধু। পাঠচর্চা না থাকার কারণে সমাজে মানবিকতা, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যপ্রীতি বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই পাঠচর্চার দিকে অধিক দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। সৃষ্টিজগতে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে মানবজাতিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রদানের লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা ‘শিক্ষা’সংক্রান্ত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্নবোধক করেছেন, ‘বলো! যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?’ (সূরা আজ-জুমার, আয়াত: ৯)

দেশকে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলতে বই পড়ায় সচেষ্ট হতে হবে। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত হয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ সর্বক্ষেত্রে দেশকে আগামীর পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে ও মানুষকে ভালোবাসতে, দেশকে ভালোবাসতে এবং একজন সার্থক মানুষ হতে প্রয়োজন বইয়ের আলো। উন্নত জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে জ্ঞান ও শিক্ষার সমন্বয়ের পাশাপাশি বড় মনের আলোকিত মানুষ হতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে যত বেশি বই তুলে দেওয়া যাবে, ততই তারা জ্ঞানসমৃদ্ধ হবে। দেশকে নেতৃত্ব দেবে সেই তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য করে তুলতে পাঠের বিকল্প নেই। ‘বই পড়ুন, জীবন গড়ুন’—এ জাতীয় স্লোগানকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়, মননশীলতার সম্প্রসারণ ও জ্ঞানের গভীরতা বাড়ায়। ভবিষ্যৎ চিন্তার জন্য বই পড়ার আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। বই পড়ার আনন্দে ও আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে পাঠক-পাঠিকাদের নামতে হবে। বড় মনের মানুষ হওয়ার জন্য সবাইকে বইয়ের সান্নিধ্যে আসতে হবে। একটি বইয়ে লেখক তাঁর সুপ্ত ভাবনাকে সৃজনশীল লেখনীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন। কবি-সাহিত্যিক-লেখকেরা তাঁদের মনের আলো বইয়ের পাতায় ঢেলে দেন, বই পড়ে সেই জ্ঞানের আলো সংগ্রহ করা যায়। বই পড়া সচেতন মানুষের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও স্থিতিশীল। যারা বড় হতে চায়, তাদের প্রয়োজন বেশি বেশি করে বই পড়া। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু তিনটি আমলের সওয়াব জারি থাকে। ১. সাদকায়ে জারিয়া, ২. এমন বিদ্যা বা জ্ঞান, যা থেকে লাভবান হওয়া যায় এবং ৩. সুসন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম)

ফেসবুক, ইন্টারনেট আর ভাইবারের যুগে বই পড়ার আনন্দ কজন পেতে চায় তা একটি বড় প্রশ্ন। এই জেনারেশনের অনেকের কাছে আবার বই পড়াটা ‘ওল্ড ফ্যাশন’।

বর্তমানে কাগজের বইয়ের সময় ফুরিয়ে অাসছে ক্রমশ। একটি তরতাজা বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টিয়ে উল্টিয়ে পড়া অার নতুন বইয়ের ঘ্রাণের অাবেদন কখনোই ফুরাবে না। তবে ই-বুক বা পিডিএফ ফরমেটের বইয়ের চাহিদাও বেড়েছে। বই রাখা নায়ে যেমন ঝামেলা তেমন মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ বা পিসিতে বসে পড়ে ফেলা যায় সহজেই। একটি মেমোরি কার্ডে রাখা যায় হাজার হাজার বই।

বর্তমানে অামাদের বেশিরভাগ সময়’ই কেটে যায় ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অামরা যতসময় ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে ব্যয় করি তার সামান্য অংশ যদি অামরা বই পড়ি তাহলে নিশ্চিন্তে বলা যায় অনেক জ্ঞান অর্জন করা যাবে। ধরে নিচ্ছি, ইন্টারনেটেও বিভিন্ন সাইট রয়েছে বই পড়ার জন্য। অনলাইে বই পড়ার জন্য সেরা সাইট গুলো হলো: Google Books, Project Gutenberg, Open Library, Goodreads, International Children’s Digital Library, Manybooks etc.

অামাদের দেশেও বই পড়ার জন্য ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইট রয়েছে। বিনামূল্যে বাংলা বই পড়ার জন্য ৬টি দারুণ ওয়েবসাইট রয়েছে বাংলাদেশে। যেমন:

* www.boierdokan.com

* www.amarboi.com

* www.sovietbooksinbengali.com

* www.albanglabooks.com/viewbook/B/1182/

* www.banglainternet.com

* www.thebanglabook.com

এছাড়াও অারো বিভিন্ন ধরনের সাইট রয়েছে যেগুলোতে সহজেই বিভিন্ন ধরনের বই পড়া যায়। সার্চ দিয়ে মুহুর্তের মধ্যই অামরা পেয়ে যাই হাজার হাজার বইয়ের সমাহার।

শুধু সাইটের নাম জানাও সার্চ দিয়ে খুজলেই হবে না, বাস্তব জীবনে অামাদের বইপড়ার অভ্যাসটাও অর্জন করতে হবে। অামাদের যদি পড়ার অভ্যাটাই না থাকে, তাহলে সব সাইট’ই বৃথা। দেশকে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলতে বই পড়ায় সচেষ্ট হতে হবে। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত হয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ সর্বক্ষেত্রে দেশকে আগামীর পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে ও মানুষকে ভালোবাসতে, দেশকে ভালোবাসতে এবং একজন সার্থক মানুষ হতে প্রয়োজন বইয়ের আলো। উন্নত জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে জ্ঞান ও শিক্ষার সমন্বয়ের পাশাপাশি বড় মনের আলোকিত মানুষ হতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে যত বেশি বই তুলে দেওয়া যাবে, ততই তারা জ্ঞানসমৃদ্ধ হবে। দেশকে নেতৃত্ব দেবে সেই তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য করে তুলতে পাঠের বিকল্প নেই। ‘বই পড়ুন, জীবন গড়ুন’—এ জাতীয় স্লোগানকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

লেখক

মোঃ মাসুম হোসেন

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ

চট্টগ্রাম কলেজ।

মন্তব্য দিন ...

শেয়ার করুনঃ
মিস করলে পড়ে নিন ...