মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

সুন্দর ব্যবহার ও আচরণ

  • প্রকাশের সময়ঃ রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৫৬ জন পড়েছেন
শেয়ার করুনঃ

সুন্দর ব্যবহার ও আচরণ

ব্যবহার মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য উপাদান। ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে জগতের সব মানুষ পারস্পরিক সর্বোত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিকার রাখে। সুন্দর ব্যবহারকে ইসলামে অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষ নিজেকে অন্যের কাছে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারে। সব মানুষেরই নিজের ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করার জন্য তার ব্যবহারকে অমায়িক করে গড়ে তোলা দরকার। কেননা, আচার-ব্যবহারের মধ্য দিয়েই মনুষ্যত্বের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। মানুষ ভালো কথাবার্তা ও আচার-ব্যবহার গঠনের মাধ্যমে নিজেকে শোভন, সুন্দর আর পরিশীলিত করে অন্যের প্রীতিভাজন হয়ে উঠতে পারে। একজন মুমিনের মূল্যবান সম্পদ হল সুন্দর ব্যবহার। সুন্দর ব্যবহার, ভালো আচরণের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ তায়ালার এমন নৈকট্য অর্জন করে, যা অনেক অনেক নফল ইবাদতের চেয়েও বড় মাকামে পৌঁছে দেয়। তাই আমরা দেখি, প্রত্যেক নেককার মানুষই ইবাদতের পাশাপাশি সুন্দর ব্যবহার, মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সুন্দর ব্যবহার ও আচার-আচরণ বলতে আমরা বুঝি কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা। দেখা হলে সালাম দেওয়া। কুশলাদি জিজ্ঞেস করা। কর্কশ ভাষায় কথা না বলা। ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত না হওয়া। ধমক বা রাগের সুরে কথা না বলা। পরনিন্দা না করা। কাউকে অপমান-অপদস্ত না করা। উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা। গম্ভীর মুখে কথা না বলা। সর্বদা হাসিমুখে কথা বলা। অন্যের সুখে সুখী হওয়া এবং অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়া। এছাড়া কারও বিপদ-আপদে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করাও সুন্দর আচরণের অন্তর্ভুক্ত।মানুষ তার উত্তম ব্যবহার ও চরিত্র দ্বারা পরিবারসহ সমাজকে অলোকিত করে থাকে। হাদিসে নূরনবিজী (স) বলেছেন, ‘তোমরা দোজখের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, একটি খেজুর দিয়ে হলেও। যদি তা না পাও, তাহলে মধুর ভাষা ও সুন্দর ব্যবহারের বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে বাঁচো।’ (বুখারি)

উত্তম চরিত্রের ফজিলত সম্পর্কে নূরনবী (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে সে ওই ব্যক্তির চেয়ে বেশি মর্যাদায় পৌঁছে যায়, যে রাতে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং দিনে রোজা রাখে।’ (মুসনাদে আহমাদ।) হাসি মুখে মানুষের সঙ্গে কথা বলাও সুন্দর ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। কেউ যদি কারো সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলে সেও উত্তম ব্যবহারের ফজিলত অর্জন করবে। আল্লাহর হাবিব (স) বলেছেন, ‘কেউ যদি এই নিয়তে তার ভাইয়ের সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলে যে, আমার হাসি মুখ দেখে আমার ভাইয়ের মুখেও হাসি ফুটবে- এর বিনিময়ে কিয়ামতের কঠিন দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে খুশি করবেন। (মুসনাদে আহমাদ।) মানুষের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ করা ভালো চরিত্রের পরিচয় নয়।

সুন্দর ব্যবহারের ফজিলত শুধু আখিরাতে নয় দুনিয়াতেও রয়েছে। রাসুল (স) বলেছেন, ‘পরিপূর্ণ মোমিন সে ব্যক্তি, যার আচরণ সবচেয়ে ভালো। যে তার পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে নরম আচরণ করে, সেই আল্লাহর কাছে প্রিয় বান্দা।’ (তিরমিজি)।

সুন্দর ব্যবহার গড়ে তুলতে হলে মানুষের মন-প্রাণ উদার হতে হয়। আবার ব্যবহার সুন্দর হলে তার মন উদার ও মানবিক গুণাবলিতে ভরপুর হয়ে ওঠে। ভদ্র ও সংযমী আচরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে সুন্দর ব্যবহার। কারও মধ্যে এসব সদ্গুণের সমাহার থাকলে তা ধীরে ধীরে মানুষের ব্যবহারকে সুন্দর ও শোভন করে গড়ে তোলে। তাই ইসলামি জীবনাচার, আদব-কায়দা ও শিষ্টাচার নিজের জীবনে পরিপালন করতে হবে। পরিপাটি হয়ে থাকা, মানানসই জামা-কাপড় পরিধান করা, পারস্পরিক সাক্ষাতে সালাম ও অভিবাদন দেওয়া, উত্তম আচরণ করা এবং অনুমতি নিয়ে কথা বলা ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি। ইসলামে শিষ্টাচার বা আদবকে ইমানের অংশ বলা হয়েছে।সমাজকে এমন আলোকিতভাবে গড়ে তোলা দরকার, যাতে সহজেই সব মানুষ ব্যক্তিগতভাবে সদ্বব্যবহার করার সুযোগ পায়। সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে মানবজীবনকে সুখী, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ করার পাশাপাশি চিরন্তন জীবনের মহাশান্তি লাভের পথ সুগম করা সম্ভব।

 

লেখক

মোঃ মাসুম হোসেন

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ

চট্টগ্রাম কলেজ।

মন্তব্য দিন ...

শেয়ার করুনঃ
মিস করলে পড়ে নিন ...