বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩২ অপরাহ্ন

চাই নৈতিক মূল্যবোধে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার

  • প্রকাশের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ৯৭ জন পড়েছেন
শেয়ার করুনঃ

এডিটর’স কলাম

আকতার ইবনে ওয়াহাব

—————–

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে তথ্য প্রযুক্তির চাহিদা, প্রয়োগ, অনুভব এবং ব্যবহার বাড়তে থাকে। যা আজ পর্যন্ত চলমান এবং আধুনিকায়ন হচ্ছে। যুগ যত এগোচ্ছে বিজ্ঞানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে। একটি জাতিকে জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে যেতে হলে তথ্যপ্রযুক্তিতেও এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু এই তথ্যপ্রযুক্তির রয়েছে দুটি দিক।

তথ্যপ্রযুক্তির সুফল এবং কুফল দুটি দিক ই রয়েছে। বলা যায়- প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অপব্যবহার।

এর মধ্যে আপনি কোনটা বেছে নিবেন এটা আমার আপনার দায়িত্ব। এর যেমন সুফল আছে, আছে এর কুফল প্রয়োগ। এই প্রয়োগ অনেকটা নিষ্ক্রিয় বোমা কিংবা ক্যান্সার রোগের মত। জেনে নিই এর কিছু সুফল এবং কুফল কিংবা অপব্যবহার। আর এই নিয়ে আজকে আমাদের এডিটর’স।

তথ্যপ্রযুক্তির সুফলঃ
সমাজ-সভ্যতার সামগ্রিক উন্নতিতে জাতির কল্যাণ নিহিত। বর্তমান সভ্যতা বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগ।আর তাই এর ব্যবহার বেড়েই চলেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে আজ উন্নত রাষ্ট্রগুলো আরো উন্নয়নশীল দেশে রুপান্তরিত হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে দীর্ঘ সময়ের কাজকে স্বল্প সময়ে সমাপ্তি করছে। যার ফলে উৎপাদনশীলতা যেমন বাড়ছে, তেমনি কমছে শ্রমিকের সংখ্যা। যুদ্ধের ময়দানে এখন আর তেমন যুদ্ধ সংঘাত তেমন চোখে পড়েনা। দেশে বসে শত্রুকে লক্ষ্য করে মিসাইল কিংবা ড্রোন বিমান হামলা করা যায়। বাজারে দীর্ঘ সময় না কাটিয়ে ঘরে বসে অর্ডার করলে সব পৌছে যায়। রোগীর সেবায় নার্সের পরিবর্তে রোবটের সেবা। বাসায় বসে দেশ বিদেশে পড়াশোনা করা যায়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক অজানা তথ্য দেশ বিদেশের জানা যায়।

এমন হাজারো উদাহরণ দেয়া প্রযুক্তি সেবার। আর এসব তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়নের অবদান। এবং এর সুফল ভোগ করছে মানুষ। যা মানুষের ব্যস্ততাকে কমিয়ে দিয়ে কাজকে সহজতর করেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির কুফল কিংবা অপব্যবহারঃ
এবার আসি এর অপব্যবহার কতটুকু বেড়েছে এবং এটি সুফলের চেয়ে বেশি কিনা? তথ্যপ্রযুক্তি এটি যেমনি ভাল কাজে ব্যবহার করা যায়, ঠিক তেমনি আছে এর অপব্যবহার।

বর্তমানে এর অপব্যবহার দিন দিন বেড়ে চলেছে। একটি জাতি কিংবা দেশকে ধ্বংস করতে ক্ষেপণাস্ত্র বোমা দরকার হয়না। যদি সে দেশ কিংবা জাতির সংস্কৃতি ধ্বংস করা যায়। আজ আমাদের দেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে তাই চলছে। ব্যক্তি থেকে পারিবারিক, পারিবারিক থেকে সমাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এতই বেড়েছে যা অকল্পনীয়। শুধুই কি বেড়েছে? এই বেড়ে যাওয়ার পিছনে আছে অপব্যবহারের বিশালতা। আছে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, উইচ্যাট, লাইকি, ইমু ইত্যাদি এপসের বিশাল জগত। যা কিনা বর্তমান কিশোর-কিশোরী প্রজন্ম থেকে শুরু করে যুব-যুবতী প্রজন্মের জীবন নিয়ে খেলছে। মজার ছলে অশ্লীল শব্দের ছড়াছড়ি প্রতিনিয়ত ঘটছে। ঘটছে অশ্লীল দৃশ্য।

প্রযুক্তির এই অপব্যবহার অনেকের জীবনকে শেষ করে দিচ্ছে পর্ণ সাইট, গেমসের নেশা এবং পাবজির মত গেম দিয়ে।গেমের নেশায় পড়ে শিশুরা পড়ালেখার টেবিল থেকে দূরে সরে গিয়েছে। সারাদিন গেইম নিয়ে ব্যস্ত। পিতামাতার আদেশ কঠোর হলে পাল্টা জবাব দিতে শিখেছে।

শুধু এখানে শেষ নয়, অনেকের মেয়ের ইজ্জত, চরিত্র হনন সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হয়ে অতঃপর খোশগল্পে আপন হয়ে সতীত্ব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের মত ঘটনা খবরের কাগজে শিরোনাম হচ্ছে। স্ত্রী স্বামীর সন্দেহ বেড়ে যাচ্ছে। ভালবাসা হারিয়ে ডিভোর্সকে বেছে নিচ্ছে। এসব ই তো সোস্যাল মিডিয়ায়।

ইলেকট্রনিক মিডিয়া তথা টিভি কিংবা ইউটিউব চ্যানেল এর মাধ্যমে অপব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে এর অপব্যবহার করে অনেক কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী এমনকি যুবক-যুবতীরাও তাদের জীবন কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। হারিয়ে ফেলছে নৈতিক মূল্যবোধ। বিজ্ঞানের আবিস্কার স্যাটেলাইটের কারণে পশ্চিমা-আর পার্শ্ববর্তী আকাশ অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের কারণে আমরা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে গিয়েছি। বিদেশী অপসংস্কৃতির সুকৌশল জয়জয়কারের মুখে দেশীয় সংস্কৃতি পরাজয় হয়েছে।

ভারতীয় টিভি চ্যানেল Z-বাংলা, স্টার জলসা, স্টার প্লাস, কালার এবং সনি ম্যাক্স ইত্যাদি চ্যানেল গুলো আমাদের পারিবারিক, সামাজিক সংস্কৃতি কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বৌ শাশুড়ী যুদ্ধ করতে শিখেছে। পরিবারে পরকীয়া বাড়তে সাহায্য করছে। সিআইডি, ক্রাইম পেট্রোল নামক তথাকথিত দৃশ্য দেখে অনেকে সিরিয়াল কিলার, গ্যাং এবং ধর্ষকের লীডার হতে শিখেছে।

এ অপসংস্কৃতির ভোগের কবলে পড়ে অনেক মা-বোনের ইজ্জত হারাতে হচ্ছে। এবং অনেক পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পরকীয়া সন্দেহের কারণে পারিবারিক কলহ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ধর্ষণ, খুন খারাবীর মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা বেড়ে চলছে।

ডিভোর্স সংস্কৃতির পাল্লায় পড়ে সমাজের প্রায় অনেক পরিবারে ছড়িয়ে পড়ছে বিশৃংখলা। যার কারণে তাদের সন্তানরা সু-শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির এসব কিছু আমাদের ব্যক্তি থেকে সমাজ পর্যায়ে এমনভাবে ঢুকিয়ে পড়েছে যা থেকে বের হওয়া অনেকটা কঠিন হবে। এই প্রযুক্তি এখন শরীরের ক্যান্সারের মত ই মারাত্মক ধারণ করেছে। ধীরে ধীরে পরিবার এবং সমাজ ব্যবস্থার মূল্যবোধকে ভেংগে দিচ্ছে। আর একদিন জাতি কিংবা রাষ্ট্রকে ভেংগে দিবে না এর গ্যারান্টি কি?

তাই আমাদের উচিত এর যথাযথ প্রয়োগ, ব্যবহার এবং জ্ঞান আহরণ করে মূল্যবোধ খোজা। আমাদেরকে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এর সঠিক ব্যবহার করে আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে হবে সকলকে। তাহলে নব আলোয় উদ্ভাসিত হবে আমাদের সোনার বাংলাদেশ।

লেখক-
সম্পাদক, সিটিজি ক্যাম্পাস

মন্তব্য দিন ...

শেয়ার করুনঃ
মিস করলে পড়ে নিন ...