সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

মহিলা আসামিকে হাতকড়া পড়ানোর বিধান

  • প্রকাশের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০
  • ১৪৫ জন পড়েছেন
শেয়ার করুনঃ

  • ফ্যাক্ট :  ডাসাবরিনাকে কেন হাতকড়া পড়ানো হলোনা
  • আইনের ব্যাখ্যা কি?

 

Provision regarding use of handcuffs to Women

মহিলা আসামিকে হাতকড়া পড়ানোর বিধান

হাতকড়া বা দড়ি ব্যবহার প্রায়শই একটি অপ্রয়োজনীয় অমর্যাদাকর ব্যাবহার। আর আসামি যদি হয় কোনো মহিলা, বৃদ্ধ, অক্ষম, রোগী, দুর্বল প্রভৃতির তাহলে তাদের হাতকড়া পড়ানোর প্রয়োজন নেই বললেই চলে। এছাড়াও শিশু আসামিদের ক্ষেত্রেও হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানোর বিধান আইনে নাই।

জামিনযোগ্য মামলার ক্ষেত্রে আসামিকে হাতকড়া পড়ানোর প্রয়োজন নেই যদিনা আসামি উগ্র প্রকৃতির হয়। আর অ-জামিনযোগ্য মামলার ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের পরিমাণটি বিবেচনার ভিত্তিতে ছেড়ে দিতে হবে- সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের উপর, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে হাতকড়া ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে, উদাহরণস্বরূপ, বন্দী যদি একজন শক্তিশালী মানুষ  যে কিনা সহিংসতার অপরাধের জন্য পুলিশ হেফাজতে, বা কুখ্যাত পূর্বসূরিদের একজন , বা যদি যাত্রা দীর্ঘ হয়, বা বন্দীদের সংখ্যা বেশি হয়, হাতকড়া সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত।

 

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮

ধারা৪৬ কিভাবে গ্রেফতার করতে হয়

() কোন একটি গ্রেপ্তার করতে, গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মচারী বা অন্য ব্যক্তি, যাকে গ্রেফতার করতে হবে সে ব্যক্তির প্রকৃতপক্ষে দেহ স্পর্শ করবেন বা বন্দী করবেন যদি না সে কথায় বা কাজে আত্মসমর্পণ করে কয়েদ স্বীকার করে

() গ্রেফতারের চেষ্টায় প্রতিরোধঃ যদি এরূপ ব্যক্তি বলপূর্বক তাকে গ্রেফতারের চেষ্টায় বাধা দেয় অথবা গ্রেফতার এড়াতে চেষ্টা করে, তাহলে উক্ত পুলিশ অফিসার কিংবা অন্য ব্যক্তি গ্রেফতার কার্যকর করার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সকল পন্থা অবলম্বন করতে পারেন

 কোনো মহিলাকে গ্রেপ্তার এর ক্ষেত্রে, যদি না কোনো বিরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, সে যদি কথায় বা কাজে আত্মসমর্পণ করে কয়েদ স্বীকার করে তবে তা গ্রেফতার হিসেবে ধরে নেওয়া হবে, যদি না বিরুপ পরিস্থিতিতে অন্যথায় প্রয়োজন হয় বা পুলিশ অফিসার একজন মহিলা না হয়মহিলাকে গ্রেপ্তার করার জন্য তাকে স্পর্শ করতে পারে না

 ধারা৫০  ( অনাবশ্যক বাধা প্রদান করা যাবে না)

গ্রেফতার করা ব্যক্তির পলায়ন রোধ করতে যা প্রয়োজনীয়, তদপেক্ষা অধিক বাধা প্রদান করা যাবে না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫() অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,

কোনো ব্যাক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দন্ড  দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরুপ ব্যবহার করা যাইবে না।

শিশু আইন, ২০১৩

৪৪। (১) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।

(৩) শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্ত্ত, ইত্যাদি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন এবং প্রাথমিকভাবে তাহার বয়স নির্ধারণ করিয়া নথিতে লিপিবদ্ধ করিবেন

তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতার করিবার পর কোন শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না

 Rule  330(a)  of  the  Police  Regulations  of  Bengal  (PRB)

(ক) ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট প্রেরণ বা তদন্তের স্থলে  নেওয়ার জন্য গ্রেপ্তারকৃত বন্দিরা

পলায়ন রোধ করতে যা প্রয়োজনীয়, তদপেক্ষা অধিক বাধা প্রদান করা যাবে না। হাতকড়া বা দড়ি ব্যবহার প্রায়শই একটি অপ্রয়োজনীয়  অমর্যাদাকর ব্যাবহার।

আসামি যদি মহিলা হয় তবে তাকে কোনো অবস্থাতেই হাতকড়া পড়ানো যাবে না, এমনকি  বয়স বা অসুস্থতার কারণে সহজেই এবং নিরাপদে হেফাজতে রাখা যাবে এমন আসামিকেও হাতকড়া পড়ানোর প্রয়োজন নেই।

ধারা১৭১  ফরিয়াদি সাক্ষীদেরকে পুলিশ অফিসারের সঙ্গে যেতে বলা যাবে না

(১) ফরিয়াদি বা সাক্ষীকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে যাওয়ার পথে পুলিশ অফিসারের সঙ্গে যেতে বাধ্য করা যাবে না।

ফরিয়াদি সাক্ষীর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না

অথবা অনাবশ্যক বাধা বা অসুবিধায় ফেলা যাবে না বা তার নিজস্ব বন্ড ব্যতীত তার হাজিরার জন্য কোন জামানত দিতে বলা যাবে না

যখন ফরিয়াদি বা সাক্ষীকারী অবাধ্য; তখন তাদেরকে আটক করে চালান দেওয়া যেতে পারে

তবে শর্ত থাকে যে, যদি ধারা-১৭০ অনুযায়ী কোন ফরিয়াদি বা সাক্ষী হাজির হতে বা মুচলেকা (বন্ড) দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার তাকে হেফাজতে গ্রহণ করে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করতে পারেন এবং ম্যাজিস্ট্রেট তাকে মুচলেকা সম্পাদন না করা বা মামলার শুনানি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে আটক রাখতে পারেন।

(২) উপ-ধারা ১) এ যা কিছুই থাকে না কেন, মামলার শুনানিকালে ফরিয়াদি বা সাক্ষী যেন আদালতে উপস্থিত থাকে তার সুনিশ্চিত বন্দোবস্তের দায়িত্ব পুলিশ অফিসারের উপর অর্পিত হবে।

Human Rights of Women ( মহিলাদের মানবাধিকার)

 

  • গ্রেপ্তারকৃত বা আটককৃত মহিলারা বৈষম্যের শিকার হবেন না এবং সকল প্রকার সহিংসতা বা শোষণ থেকে রক্ষা পাবেন।
  • মহিলা আটককৃতদের ভদ্রতার সহিত কঠোরভাবে শালীনতা বজায় রেখে মহিলা পুলিশ কর্মকর্তা দ্বারা তদারকি করবেন বা তল্লাশি করতে হয়।
  • মহিলা আসামিকে পুরুষ আটককারীদের থেকে পৃথকভাবে আটক রাখা হবে।
  • গর্ভবতী মহিলা ও নার্সিং মায়েদের আটকে রাখার জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে।
  • কোনও মহিলাকে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে বাদ দিয়ে সূর্যাস্তের পরে এবং সূর্যোদয়ের আগে গ্রেফতার করা যাবে না এবং ব্যাতিক্রম পরিস্থিতিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্ব অনুমতি গ্রহণের পরে গ্রেপ্তার করা যাবে।

মহিলা আসামিদের ক্ষেত্রে হাতকড়া ব্যবহারের বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ কি কোনও যথাযথ বিধান রয়েছে?

  • ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা- ১৭১ এ শুধুমাত্র ফরিয়াদি ও সাক্ষীদের উপর বাধা -নিষেধ নিয়ে বলা হয়েছে।

 

  • ধারা ৫০ তে অনাবশ্যক বাধা প্রদান না করার বিষয় নিয়ে বলা হয়েছে।

 

  • ধারা ৪৬ তে সাধারণভাবে কিভাবে গ্রেফতার করতে হয় তাহলে বর্ণনা করা হয়েছে ।

 

  • ধারা ৫২ তে নারীদের দেহ তল্লাশির পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে।

 

কিন্তু  মহিলা আসামি দেরকে হাতকড়া পড়ানোর বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধিতে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান বর্ণনা করা হয়নাই  যেমনটা বর্ণনা করা হয়েছে  Police  Regulations  of  Bengal  (PRB) এর  বিধি ৩৩০() তে ফৌজদারি কার্যবিধিতে restraint শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু কোনো specific modes of arrest সম্পর্কে বলা হয়নি

আইনের  শিক্ষার্থী হিসাবে আমরা এটি সম্পর্কে কী করতে পারি?

মহিলাদের মধ্যে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে মহিলা আসামিকে গ্রেফতার এর ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন হওয়া রোধ করতে পারি

  • একজন মহিলা পুলিশ অফিসারই একজন মহিলাকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন
  • কোন মহিলাকে সূর্যাস্তের পরে এবং সূর্যোদয়ের আগে গ্রেপ্তার করা হবে না
  • মহিলা  আসামিকে কোনো অবস্থাতেই হাতকড়া পড়ানো যাবে না

যেহেতু আমরা আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে বিধানটির সম্পর্কে  অবগত  তাই  আমরা কমপক্ষে আমাদের বন্ধুদের, পরিবারের সদস্য বা আমাদের চারপাশের লোকদের অবহিত করার দায়িত্ব নিতে পারি  আমাদের সামান্য পদক্ষেপ এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখতে পারে এবং লোকদের তাদের অধিকার জানার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে

Nazmul Hossain Ovi

Southern University Bangladesh

Department of law

মন্তব্য দিন ...

শেয়ার করুনঃ
মিস করলে পড়ে নিন ...