1. abontu.ru95@gmail.com : abontu :
  2. adanbobadilla@bcd.geomenon.com : adanc1962547 :
  3. aktar.asia@gmail.com : aktar :
  4. jaidmtarik@gmail.com : campus22 :
  5. emteeaz2017@gmail.com : emteeaz :
  6. ahamedfarhad0123@gmail.com : farhad :
  7. admin@ctgcampus.com : jaid :
  8. mdmasum4882@gmail.com : masum :
  9. rafiebc0@gmail.com : rafi21 :
  10. rashedulislam.nubd@gmail.com : rashed21 :
  11. mdsadikaziz64@gmail.com : sadikaziz :
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিংঃ
বেসরকারি ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষাজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। রাত পোহালেই বদরখালী সমিতির নির্বাচন, ভোটের মাঠে উড়ছে টাকা এসএসসির প্রশ্নফাঁস নিয়ে মামলায় যা বলা হয়েছে পছন্দের সাবজেক্টে চান্স পেলেন ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত ১১ সেপ্টেম্বর আইআইউসির ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্পিড ব্রেকার ও ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে ইউএসটিসি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন খুলশীতে বাইক দূর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী  সহ ২জন গুরুতর আহত  এসএসসি পরীক্ষার সময় পেছালো এক ঘন্টা, শুরু হবে বেলা ১১টায় এশিয়া কাপঃ ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তান নিল প্রতিশোধ চট্টগ্রামে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় চবি শিক্ষকের মৃত্যু

আপনার সন্তানকে বাজির ঘোড়া নয়, ভালোবাসার মানুষ বানান

  • সময় বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এবিএম শাইখুল ইসলাম-ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, 

বর্তমান বাংলাদেশের বেশিরভাগ ফ্যামিলির বাবা-মা সন্তানকে এভাবেই মানুষ করেন- বড় হও, ধনী হও, টাকা কামাও, স্ট্যাটাস বানাও, ক্যারিয়ার বানাও। কথাগুলো জপতে জপতে এই বাপ মায়েরা আমাদের বলতে ভুলে যান- বাবারা এবার একটু থামো, ভালোবাসো। কেউ বলে না, কেউ না!

ছোটবেলা থেকেই এই ছেলেমেয়েদের রেসের ঘোড়া বানানোর প্রক্রিয়া চলতে থাকে।আদর, যত্ন, ভালোবাসার সাথে সাথে বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়, তোমাকে কিন্তু “ওর” মতোই হতে হবে। না হতে পারলে কিন্তু আমাদের “মুখ” উজ্জ্বল হবে না।

ছেলে মেয়েও শুরু করে দৌড়। ক্যারিয়ারের জন্য দৌড়, স্ট্যাটাসের জন্য দৌড়, ওর মতো হওয়ার জন্য দৌড়, বাপ মায়ের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য দৌড়। ক্যারিয়ার, টাকা আর সোশ্যাল স্ট্যাটাসের ইঁদুর দৌঁড়ের ভীড়ে পিষ্ট হয়ে খুন হয়ে যায় সবথেকে দামী হৃদয়টা, অন্তর্চক্ষুটা বরণ করে নেয় অন্ধত্বের পরিণতি, বিলিয়ন ডলারের চাইতে দামী ব্রেইনটা হয়ে যায় বস্তুবাদের এজেন্ট, বধির হয়ে যায় অনুভতির কান।

বস্তুবাদী দৌড় চলতে থাকে। কেউ সে দৌড়ে জিতে, কেউ হারে। যে হারে তাকে বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয় তুমি পরাজিত, তুমি আমাদের মুখ উজ্জ্বল করতে পারো নাই। আর যে জিতে, তারে নিয়ে বাপ মা শুরু করে গর্ব। দেখেছো, আমার ঘোড়া কত সুন্দর দৌড়ায়? আমরা ঐ ঘোড়ারই সফল বাপ মা।

সমাজে মুখ উজ্জ্বল করার খেলা শেষ হয়। স্ট্যাটাসের খেলা শেষ হয়। ক্যারিয়ার ক্যারিয়ার খেলা শেষ হয়। আত্মীয়দের মধ্যেই জিতে যাওয়ার খেলাটাও শেষ হয়। বাপ মায়ের বয়স হয়। বাপ মা এবার চায় তার বাজির ঘোড়া ঘরে ফিরুক। খেলা তো শেষ হলো, আর কত?

কিন্তু ততদিনে ঘোড়া একলা চলতে শিখে গেসে।ততদিনে ঘোড়াটা আরো জোরে দৌড়াতে শিখে গেসে, সেও এখন ক্যারিয়ার, স্ট্যাটাস, টাকার হিসাব করতে শিখে গেসে। সে দৌড়াতে শিখেছে, কিন্তু সে থামতে শেখেনি।

ভালোবাসা, মায়া, দয়া ইত্যাদি কথাবার্তা ঐ ঘোড়া সন্তানটি এখন আর বুঝতেই পারে না। বাপ মায়ের ভালোবাসার কথা তার কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়।
তাকে তো ছোটবেলা থেকে দৌড়ানো শেখানো হয়েছে, থামতে শেখানো তো হয়নি!! তাকে ছোটবেলা থেকেই ক্যারিয়ারের অঙ্ক শেখানো হয়েছে, ভালোবাসার উত্তর তো শেখানো হয় নি!

একটা সময় গিয়ে এই বাপ মায়েরা ঠিকই বুঝতে শুরু করেন, সন্তানের লুক্রেটিভ ক্যারিয়ারের চেয়ে সন্তানকে একটু ছুয়ে দেখা বেশি আনন্দের। ছেলেটার সাথে বিকেলে একটু চা খাওয়া অনেক বেশি মূল্যবান। আত্মীয় স্বজনের কাছে মুখ উজ্জ্বল করার চেয়ে,বিরাট ক্যারিয়ারিস্ট সন্তানের গর্ব করার চেয়ে, এক বিকেলে বারান্দায় বসে মেয়েটার মাথায় তেল দিয়ে দেওয়াটা বেশি আনন্দের। চুলে বেনি করে দেওয়াটা বেশি সুখের।

এক বুক ক্লান্তি নিয়ে কবি হেলাল হাফিজ লিখেছিলেন,

কেউ বলেনি,
ক্লান্ত পথিক,
দুপুর রোদে গাছের নিচে একটু বসে জিরিয়ে নিও….

এভাবে প্রচলিত সিস্টেমে আমাদের হৃদয়টাকে হত্যা করে আমাদেরকে একেকটা হৃদয়হীন বস্তুবাদী মেশিন বানানো হয় যার একমাত্র চাওয়া বেশি আউটপুট। এভাবে তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে এক অন্ধ প্রজন্ম যাদের অন্ধত্ব হৃদয়ে। তাই তথাকথিত ‘জ্ঞান’ আর ‘সার্টিফিকেট’ জমিয়ে জমিয়ে কেবলই বিভ্রান্তির সুতীব্র জ্বালানী বাড়ছে, শান্তি ও সত্যের জন্য কাজ করার সময় আর মিলছে না, হৃদয় সাড়া দিচ্ছে না। ফলে সত্যিকারের মানুষ্যত্ব থেকে হওয়া থেকে আমরা সরে যাচ্ছি যোজন যোজন দূরে। পরিণাম তো চারপাশে প্রতিনিয়ত দৃশ্যমানই।

অতএব, প্রিয় বাপ মায়েরা, আপনাদের সন্তানেরা দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত। তাদের একটু থামতে বলেন। একটু জিরিয়ে নিতে বলেন। তাদের ঘোড়া বানায়েন না প্লিজ, যান্ত্রিক রোবট বানায়েন না প্লিজ!! তাদের মানুষ বানান। তাদের শুধু ক্যারিয়ার শেখায়েন না, শুধু স্ট্যাটাস আর টাকা শেখায়েন না, তাদের ভালোবাসতেও শেখান।

এতে হয়তো আপনার ছেলে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী হতে পারবে না। হার্ভার্ড কিংবা নাসা কাপাইতে পারবে না। সফলতার হিমালয় জয় করতে পারবে না। কিন্তু বিশ্বাস করেন, সে আপনার কথা বুঝবে। আপনার হাতটা ধরতে পারবে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনার খোঁজ নিতে, ওষুধটা খাইয়ে দিতে পারবে। বিশ্বাস করেন, নাসার বিজ্ঞানী সফল রোবট সন্তানের চেয়ে আপনার হাতে হাত রাখা ব্যর্থ মানুষ সন্তান আপনার জন্য অনেক বেশি কাজের।

আপনার সন্তানকে বাজির ঘোড়া নয়, ভালোবাসার মানুষ বানান প্লিজ।৷

লিখেছেন-
ইসতিয়াক উদ্দিন মোহাম্মদ তাসকিন
ছাত্র: এমবিবিএস, ঢাকা মেডিকেল কলেজ,ঢাকা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো ...

লিখুন এখানে

© All rights reserved © 2014 -22 Ctgcampus.com

Powered By Cynor Technology